সুন্দরবনের বিখ্যাত সব প্রানী এবং উদ্ভিদ

  sundarbans


সুন্দর বন হল বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন যা বাংলাদেশের দক্ষিন এবং ভারতের পশ্চিম অঙ্গ রাজ্য মিলে অবস্থিত।

যদিও বর্তমানে আমাজন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বন কিন্তু প্রায় ৫০ বছর পূর্বে যখন মানুষ এখানে বসবাস করেনি তখানও এ টি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বন ছিল।


 সুন্দর বনের মোট আয়াতনের ১০ ভাগের ৬ ভাগ বাংলাদেশে এবং বাকি ৪ ভাগ ভারতে অবস্থিত। মোট আয়াতন প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার বাংলাদেশে রয়েছে ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এবং ভারতে আছে ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার

ভৌগলিক দিক দিয়ে ভারতের লুগলি নদী এবং বাংলাদেশের বলেশ্বর নদী এ দুই জলধারার মাঝখানের নাম ম্যানগ্রোভ বন।

উত্তরের দিক থেকে নেমে আসা গঙ্গা,ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা এ তিন ধলধারার মোহনায় সুন্দর বন অবস্থিত।


এ বনের নামকরণ নিয়ে একাধিক মন্তব্য রয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মন্তব্য হল, সুন্দরী নামক এবনের গাছের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় সুন্দর বন


এ বনের প্রানীর মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার যা বাংলাদেশে এবং ভারতের জাতীয় পশু হিসাবে পরিচিত,

বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী এশিয়া মহাদেশে আড়াই হাজার বাঘ রয়েছে এর মধ্যে সুন্দর বনে আছে প্রায় ১০ ভাগ।

হলুদের উপরে কালো ডোরাকাটা রঙ্গের জন্য বিশ্ব বিখ্যাত এ বাঘ, এর গড় দৈর্ঘ্য ১০ ফুট এবং গড় ওজন ২০০ থেকে ২৫০ কেজি। 

এক সময় প্রায় দেড় লক্ষ হরিন ছিল কিন্তু বর্তমানে এ বনে মাত্র ২২ হাজার হরিণ রয়েছে এছাড়া বানর, নেকড়ে, শেয়াল, নোলাপানির কুমির, নীল মাছরাঙ্গা আন্যতম প্রানী।


সুন্দর বনে প্রায় ৩০০ প্রকারের উদ্ভিদ রয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী দেখা যায় গোলপাতা এবং গেওয়া গাছ,

গোলপাতা গাছ ঘড়ের ছাওনি দিতে ও ব্যবহার করেন স্থানীয়রা।


সুন্দর বনের পাশে সমুদ্র তীরের মূল সৌন্দর্য সন্ধ্যায় দখা যায়, সূর্যাস্তের অপরুপ দ্রশ্য। এছাড়া সমুদ্র তীরে দেখা যায় সুন্দর সুন্দর শামুক

 

প্রায় ৫০ হাজার বছর পূর্বে এখানে মানুষের কথা বলা হলেও ইতিহাসে উল্লেখ্য  করা হয় তৃতীয় শতকে

বর্তমানে এখানে যারা স্থায়ীভাবে বসবাস করে তাদের প্রধান জীবিকা হল মাছ শিকার এবং মধু আহোরণ করা। 


ভৌগলিক দিক থেকে বঙ্গোপসাগরের পাশে থাকায় প্রায় প্রতি বছরই এ বনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৭ সালের ঘূর্নিঝর সিডরের আঘাতে এ বনের প্রায় ৪০ ভাগ উজাড় হয়ে যায় এবং ৩ বছরের মাথায় ২০১০ সালে আইলার আঘাতে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়।

إرسال تعليق (0)
أحدث أقدم